গ্যাসের কারণে বমি বমি ভাব একটি অস্বস্তিকর অনুভূতি। এটি দূর করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে যদি সমস্যা তীব্র হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গ্যাসের কারণে বমি বমি ভাব দূর করার কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলো:
তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য:
- আদা: আদা হজমক্ষমতা বাড়াতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে খুবই কার্যকর। ছোট এক টুকরা কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন বা আদা চা পান করতে পারেন। আদা চা তৈরির জন্য, এক ইঞ্চি আদা কুচি করে গরম পানিতে ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন এবং ধীরে ধীরে পান করুন।
- লেবু: লেবুর গন্ধ এবং টক ভাব বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এক টুকরা লেবু চুষে খেতে পারেন বা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।
- পুদিনা: পুদিনার পাতা চিবানো বা পুদিনা চা পান করা পেটের গ্যাস কমাতে এবং বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
- জোয়ান: সামান্য জোয়ান চিবিয়ে খেলে বা গরম পানিতে মিশিয়ে পান করলে গ্যাস কমে এবং বমি বমি ভাব দূর হয়।
- লবঙ্গ: একটি বা দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে বা লবঙ্গ চা পান করলে বমি বমি ভাব কমতে পারে।
পেটের গ্যাস কমানোর জন্য:
- হাইড্রেটেড থাকুন: প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা হজমক্ষমতাকে উন্নত করে এবং গ্যাস তৈরি হওয়া কমাতে সাহায্য করে।
- ধীরে ধীরে খান: তাড়াহুড়ো করে খেলে বেশি বাতাস পেটে প্রবেশ করে যা গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে। ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খান।
- ছোট ছোট খাবার গ্রহণ করুন: একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাবার কয়েকবার খান।
- সহজে হজমযোগ্য খাবার খান: ফ্যাটযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস তৈরি করতে পারে। সহজে হজমযোগ্য খাবার যেমন - ভাত, টোস্ট, কলা, আপেল সস ইত্যাদি খান।
- কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন: কিছু খাবার যেমন - মটরশুঁটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ, কার্বোনেটেড পানীয় গ্যাস তৈরি করতে পারে। এগুলো পরিহার করে চলুন।
- খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন: খাওয়ার পর হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং গ্যাস কম তৈরি হয়।
- ঢেকুর তুলুন: খাওয়ার সময় বা পরে ঢেকুর তোলার চেষ্টা করুন, এতে পেটে জমা গ্যাস বের হয়ে যাবে।
- যোগা ও ব্যায়াম: কিছু যোগা আসন এবং হালকা ব্যায়াম হজমক্ষমতা বাড়াতে এবং গ্যাস কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
যদি বমি বমি ভাব তীব্র হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা এর সাথে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- তীব্র পেটে ব্যথা
- জ্বর
- ডায়রিয়া
- রক্তবমি
- মলের সাথে রক্ত
- ওজন হ্রাস
- দুর্বলতা
মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়গুলো তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারে, কিন্তু যদি গ্যাসের সমস্যা বারবার হয় বা বমি বমি ভাব না কমে, তবে অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বের করা এবং সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন